হরমুজ প্রণালীতে ইরান যুদ্ধের রক্তচক্ষু পার করে সবেমাত্র দেশের জলসীমায় পৌঁছেছে ভারতীয় জাহাজ। প্রবল যুদ্ধের মাঝে যে জলসীমায় পর পর তেল ট্যাঙ্কার হামলার মুখে পড়ছে, সেখানে ভারতে এই জাহাজ আসায় স্বস্তির নিঃশ্বাস ফেলেছে বহু মহল। এদিকে, ইরান যুদ্ধের জেরে দেশে এলপিজি সরবরাহ ঘিরে সরকার কঠোর পদক্ষেপ নিতেই, এলপিজি গ্যাস ঘিরে শঙ্কার মেঘ ঘনীভূত হচ্ছে। ইতিমধ্যেই বেড়েছে গ্যাসের দাম। তারই মাঝে এদিন এলপিজি নিয়ে সংসদে বড় বার্তা দিলেন কেন্দ্রীয় পেট্রোলিয়াম মন্ত্রী হরদীপ সিং পুরী। অন্যদিকে, মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধের মাঝে ইরানের সঙ্গে ভারতের কূটনৈতিক সম্পর্ক ঘিরে এদিন জয়শঙ্করের প্রসঙ্গ তুলে ৩ ফোন কল নিয়ে বক্তব্য রাখে বিদেশমন্ত্রক।
কী জানিয়েছে বিদেশমন্ত্রক?
ইরানে ইজরায়েল ও আমেরিকার হামলার
মাঝেই ভারতের বিদেশমন্ত্রীর সঙ্গে ইরানের বিদেশমন্ত্রীর বেশ কয়েকবার ফোনে
কথা হয়।এই বিষয়ে বিদেশমন্ত্রক জানিয়েছে, দুই দেশের বিদেশমন্ত্রীর মধ্যে
সদ্য তৈরি পরিস্থিতিতে ৩ বার ফোন কলে কথা হয়েছে। বিদেশমন্ত্রকের তরফে
মুখপাত্র রণধীর জয়সোয়াল বলেন,’বিদেশমন্ত্রী এস জয়শঙ্কর এবং তার ইরানি
প্রতিপক্ষের মধ্যে সাম্প্রতিক দিনগুলিতে তিন বার আলোচনা হয়েছে। শেষ
কথোপকথনে তাঁরা জাহাজ চলাচলের নিরাপত্তা এবং ভারতের জ্বালানি নিরাপত্তা
সম্পর্কিত বিষয়গুলি নিয়ে আলোচনা করেছেন। এর বাইরে, কিছু বলাটা একটু আগ
বাড়িয়ে বলা হয়ে যাবে।’ বিদেশ মন্ত্রকের মুখপাত্র রণধীর জয়সওয়ালের মতে,
ইরানে প্রায় ৯,০০০ ভারতীয় নাগরিক রয়ে গিয়েছেন। এই দলে ছাত্র, নাবিক,
ব্যবসায়ী এবং তীর্থযাত্রী রয়েছেন। এর আগে জারি করা পরামর্শগুলি বেশ
কয়েকজন ভারতীয়কে ইরান ছেড়ে নিরাপদে দেশে ফিরে যেতে সাহায্য করেছে।

সংসদে কী জানালেন পেট্রোলিয়াম মন্ত্রী?
এদিকে, এদিন সংসদে এলপিজি ইস্যুতে পারদ চড়ে। লোকসভায় ভাষণ দিতে গিয়ে কেন্দ্রীয় পেট্রোলিয়াম মন্ত্রী হরদীপ সিং পুরী বলেন, ‘পেট্রোল, ডিজেল, কেরোসিন, এটিএফ বা জ্বালানি তেলের কোনও ঘাটতি নেই। পেট্রোল, ডিজেল, বিমান এবং জ্বালানি তেলের প্রাপ্যতা সম্পূর্ণরূপে নিশ্চিত।’ দেশজুড়ে বেশ কয়েকটি রেস্তোরাঁয় এলপিজি সরবরাহ নিয়ে চলমান উদ্বেগের মধ্যে, পুরী বলেন, ‘ভারতের অপরিশোধিত তেল এবং দেশীয় এলপিজি সরবরাহ সম্পূর্ণরূপে সুরক্ষিত।’