বৃহস্পতিতে আচমকাই শহর কলকাতায় ঝড় বৃষ্টি শুরু হয়ে যায় দুপুর গড়াতেই। ভরা চৈত্রের বেলায় বর্ষণ ও সঙ্গে ঝোড় হাওয়ার তাণ্ডবে কলকাতায় একের পর এক গাছ পড়ে যায় বলে খবর। এদিকে, অন্ডাল থেকে ছোট বিমানে চড়ে কলকাতায় ফেরার পথে ঝড়বৃষ্টির বিপর্যয়ের মধ্যে পড়ে যায় মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের বিমান। ঝড়বৃষ্টির মাঝে আকাশে প্রায় দেড় ঘণ্টা চক্কর কাটে মুখ্যমন্ত্রীর বিমান। পরে নিরাপদে বিমান অবতরণ করে কলকাতায়। কলকাতা বিমানবন্দর সংলগ্ন এলাকাতেও বেশ ঝড় বৃষ্টির তাণ্ডব দেখা যায়।
প্রশ্ন হল, ভরা বসন্তে আগামী দিনেও কি এমন ঝড় বৃষ্টির তাণ্ডব চলবে কলকাতায়? আলিপুর আবহাওয়া দফতর বলছে, গাঙ্গেয় পশ্চিমবঙ্গের ওপর একটি ঘূর্ণাবর্ত তৈরি হয়েছে। সেটি বিস্তৃত ওড়িশা পর্যন্ত। এছাড়াও বঙ্গোপসাগর থেকে রাজ্যে ঢুকছে জলীয় বাষ্প। তার ফলেই এই ঝড় বৃষ্টি। এই ঝড়বৃষ্টি আগামীতে বাড়তেও পারে।
শুক্রবার বাংলার ৭ জেলায় রয়েছে বৃষ্টির সতর্কতা। এই ৭ জেলাই দক্ষিণবঙ্গের। বীরভূম, পশ্চিম মেদিনীপুর, ঝাড়গ্রাম, পুরুলিয়া, বাঁকুড়া, পূর্ব ও পশ্চিম বর্ধমানে রয়েছে বৃষ্টির সতর্কতা। এছাড়াও পূর্ব ও পশ্চিম মেদিনীপুর এবং ঝাড়গ্রামের কিছু জায়গায় ৩০ থেকে ৪০ কিলোমিটার গতিতে বইতে পারে ঝোড়ো হাওয়া। বৃষ্টির সতর্কতা থাকা ৭ জেলাতেও ৫০ থেকে ৬০ কিলোমিটার গতিতে ঝোড়ো হাওয়া বইবে বলে পূর্বাভাস রয়েছে। শনি ও রবিবার দক্ষিণের বিস্তীর্ণ অংশে ঝড় বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে। সোমবার চার জেলায় ঝড়ের পূর্বাভাস রয়েছে। মঙ্গলবার থেকে পরিস্থিতি স্বাভাবিক হতে পারে।
শুধু দক্ষিণ নয়। বৃষ্টি চলবে উত্তরবঙ্গেও। আগামী সপ্তাহের বৃহস্পতিবার পর্যন্ত হালকা থেকে মাঝারি বজ্রবিদ্যুৎ সহ বৃষ্টিপাত চলবে উত্তরবঙ্গে। শনি ও রবিতে কয়েকটি জেলায় বৃষ্টির সতর্কতা রয়েছে। দার্জিলিং, জলপাইগুড়ি, কালিম্পং, আলিপুরদুয়ার, কোচবিহারে অতিভারী বর্ষণ হতে পারে শনিবার। জলপাইগুড়ি আলিপুরদুয়ালে রবিবার বর্ষণ হতে পারে।
