RG Kar ধর্ষণ ও খুনের মামলা থেকে সরল সুপ্রিম কোর্ট

Spread the love

আরজি কর মেডিক্যাল কলেজ ও হাসপাতালে তরুণী চিকিৎসক-ছাত্রীর ধর্ষণ ও খুনের ঘটনায় তোলপাড় হয়েছিল গোটা বাংলা। আন্দোলনের আঁচ ছড়িয়ে ছিল দেশের বিভিন্ন প্রান্তে। নির্যাতিতার বিচার চেয়ে পথে নেমেছিলেন লাখো মানুষ। আরজি কর-কাণ্ড নিয়ে স্বতঃপ্রণোদিত ভাবে মামলা দায়ের করেছিল সুপ্রিম কোর্ট। চিকিৎসক-ছাত্রীর ধর্ষণ এবং খুন সংক্রান্ত সেই মামলা কলকাতা হাইকোর্টে পাঠিয়ে দিল তারা। শীর্ষ আদালত জানিয়েছে, এবার থেকে আরজি কর মামলার শুনানি হাইকোর্টেই হবে।

বুধবার সুপ্রিম কোর্টের বিচারপতি এমএম সুন্দরেশ এবং বিচারপতি সতীশচন্দ্র শর্মার ডিভিশন বেঞ্চ আরজি কর মামলার কাগজপত্র কলকাতা হাইকোর্টে পাঠানোর নির্দেশ দিয়েছে। পাশাপাশি, নির্যাতিতার বাবা-মাকে এই মামলার স্টেটাস রিপোর্টের একটি প্রতিলিপি দিয়ে দেওয়ার কথা বলেছে শীর্ষ আদালত। মাত্র দু’দিন আগেই কন্যার ধর্ষণ-খুনে তদন্তের গতিপ্রকৃতি নিয়ে প্রশ্ন তুলেছিলেন নির্যাতিতার বাবা-মা। প্রৌঢ় দম্পতির দাবি, অপরাধে এক নয়, একাধিক ব্যক্তি জড়িত। গত সোমবার নির্যাতিতার মা জানান, আর চাওয়া-পাওয়ার কিছু নেই তাঁদের। মেয়ের মৃত্যুর বিচার ছিনিয়ে আনবেন। প্রয়োজনে আইন নিজের হাতে তুলে নেবেন। স্ত্রীর কথায় সায় দেন কন্যাহারা পিতাও।

২০২৪ সালের ৯ আগস্ট আরজি করে চিকিৎসক-ছাত্রীর দেহ উদ্ধার হয়। ওই ঘটনার পরের দিনই কলকাতা পুলিশের হাতে গ্রেফতার হয় সিভিক ভলান্টিয়ার সঞ্জয় রায়। তবে আরজি কর-কাণ্ডে মূল অভিযুক্তকে প্রাথমিক ভাবে দোষী সাব্যস্ত করার পরেও শীর্ষ আদালত একাধিক আনুষঙ্গিক বিষয় নিয়ে নির্দেশ দিয়েছে। তাদের পর্যবেক্ষণে ছিল আন্দোলনরত চিকিৎসকদের হাসপাতালে অনুপস্থিতির মতো ঘটনাও। স্বতঃপ্রণোদিত ভাবে এই মামলা করার পরে গত বছরের ২০ আগস্ট জাতীয় টাস্ক ফোর্স (এনটিএফ) গঠনের নির্দেশ দেয় সুপ্রিম কোর্টের ডিভিশন বেঞ্চ। কর্মক্ষেত্রে চিকিৎসকদের নিরাপত্তা সুনিশ্চিত করতে প্রোটোকল তৈরির জন্য ওই উদ্যোগ।

ঘটনাক্রমে চলতি বছরের ১৮ জানুয়ারি আরজি কর মামলার রায় ঘোষণা করে শিয়ালদহ আদালত। তাতে দোষী সাব্যস্ত হয় সঞ্জয়। ২০ জানুয়ারি তাঁর আজীবন কারাবাসের নির্দেশ দেন বিচারক অনির্বাণ দাস। কিন্তু শিয়ালদহ আদালত রায় দেওয়ার আগে কলকাতা হাইকোর্টে একটি আবেদন করেছিলেন নির্যাতিতার মা-বাবা। সিবিআই তদন্ত নিয়ে নানা প্রশ্ন তুলে উচ্চ আদালতের বিচারপতি তীর্থঙ্কর ঘোষের বেঞ্চে সেই আবেদন করা হয়। যদিও বিচারপতি ঘোষ সেই সময় নির্যাতিতার পরিবারের ওই আবেদন শুনতে চাননি। কারণ, তখন সুপ্রিম কোর্টেও আরজি কর মামলা চলছিল। এরপরে শীর্ষ আদালতেও একই আবেদন করেন নির্যাতিতার মা-বাবা। তা নিয়ে শুনানিও হয়। কিন্তু একই আবেদন নিয়ে কেন সুপ্রিম কোর্টেও শুনানি হবে? প্রশ্ন তোলেন শীর্ষ আদালতের তৎকালীন প্রধান বিচারপতি সঞ্জীব খান্না। তাঁর বক্তব্য ছিল, একই আবেদনের প্রেক্ষিতে দু’টি আদালতে শুনানি চলতে পারে না। হয় উচ্চ আদালত শুনবে, নয় তো শীর্ষ আদালত।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *