ঘাড়ের কাছে নিঃশ্বাস ফেলছে বাংলার বিধানসভা নির্বাচন। ইতিমধ্যেই রাজ্যে এসে গিয়েছে কেন্দ্রীয় বাহিনী। কিন্তু যাঁদের কাজ ভোটের আগে এবং ভোট পরবর্তী বিশৃঙ্খলা পরিস্থিতি আটকানো, শান্তি বজায় রাখা, সাধারণ মানুষকে নিরাপত্তা দেওয়া, তাঁরাই সেই গুরুদায়িত্ব ভুলে শাসক দল তৃণমূল কংগ্রেসের পার্টি অফিসে ঢুকে ক্যারাম খেলছেন বলে অভিযোগ। সম্প্রতি এমনই দৃশ্য ভাইরাল হয়েছিল সোশ্যাল মিডিয়ায়। এবার সেই ঘটনায় কর্তব্য গাফিলতি এবং নিরপেক্ষতা ভঙ্গের অভিযোগে তিন সিআরপিএফ জওয়ানকে তৎক্ষণাৎ সাসপেন্ড করল নির্বাচন কমিশন।
ক্যারাম খেলাই কাল হল?
সূত্রের খবর, শনিবার বীরভূমের এক এলাকায় টহল দেওয়ার কথা ছিল কেন্দ্রীয় বাহিনীর। কিন্তু ডিউটি চলাকালীন আচমকাই তিন জওয়ান ঢুকে পড়েন তৃণমূল কংগ্রেসের একটি স্থানীয় কার্যালয়ে। সেখানে বসে থাকা কর্মীদের সঙ্গে আড্ডায় মেতে ওঠেন বলে অভিযোগ। পাশাপাশি শুরু হয় জোরদার ক্যারাম খেলা। প্রায় এক ঘণ্টা ধরে চলে সেই খেলা। সোশ্যাল মিডিয়ায় ছড়িয়ে পড়া ভিডিওতে একেবারে স্পষ্ট দেখা গিয়েছে, তৃণমূল কংগ্রেসের কার্যালয়ে ঢুকে স্থানীয় যুবকদের সঙ্গে ক্যারাম খেলছেন দুজন জাওয়ান। কেন্দ্রীয় বাহিনীর পোশাক পরিহিত একজন পাশেই একটি চেয়ারে বসে রয়েছেন। কোনও দিকে মন না দিয়ে ক্যারামে ফোকাস করেছেন সকলেই। যদিও এই ভিডিওর সত্যতা যাচাই করিনি হিন্দুস্তান টাইমস বাংলা। পরবর্তীতে ভিডিওটি সোশ্যাল মিডিয়ায় ভাইরাল হতেই তৈরি হয় বিতর্ক।
নির্বাচন কমিশনের পদক্ষেপ
নির্বাচন কমিশনের তরফে রাজ্যের ভোট ঘোষণা হয়ে গিয়েছে। এই মুহূর্তে বলবৎ রয়েছে আদর্শ আচরণবিধি। এমতাবস্থায়, সিউড়ির এই খবর জানাজানি হতেই মুহূর্তের মধ্যে তা পৌঁছে যায় নির্বাচন কমিশনের কানে। বিভিন্ন এলাকায় রুট মার্চ না করে তৃণমূল কংগ্রেসের পার্টি অফিসে ঢুকে ক্যারাম খেলার ঘটনায় তিনজন জাওয়ানকে চিহ্নিত করার পাশাপাশি তাঁদের সকলকেই সাসপেন্ড করেছে নির্বাচন কমিশন। তাঁদের বিরুদ্ধে বিভাগীয় তদন্ত বা ডিপার্টমেন্টাল প্রসিডিংস’ শুরু করার নির্দেশও দেওয়া হয়েছে। নির্বাচন কমিশনের তরফে একেবারে স্পষ্ট জানিয়ে দেওয়া হয়েছে, দলীয় কার্যালয়ে ঢুকে ক্যারাম খেলার মতো অভিযোগ থাকায় তাঁরা আর নির্বাচনের দায়িত্ব পালন করতে পারবেন না। এলাকায় কেন্দ্রীয় বাহিনীর এমন ‘উদাসীন’ ও ‘পক্ষপাতমূলক’ আচরণে ক্ষুব্ধ কমিশনের কর্তারা।এর আগেও বিএসএফ-এর কয়েকজন জওয়ানের বিরুদ্ধে অভিযোগ ওঠায় তাঁদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নিয়েছিল কমিশন। কিন্তু সেই ঘটনা থেকে যে কোনও শিক্ষাই নেওয়া হয়নি, বীরভূমের ঘটনা তারই প্রমাণ। ওয়াকিবহাল মহলের মতে, ভোটের মুখে কেন্দ্রীয় বাহিনীর ভাবমূর্তি যাতে কোনওভাবেই কালিমালিপ্ত না হয়, সে বিষয়ে বদ্ধপরিকর নির্বাচন কমিশন। সোজা কথায়, কোনও নির্দিষ্ট রাজনৈতিক দলের কার্যালয়ে জওয়ানদের এই ধরণের উপস্থিতি বাহিনীর পেশাদারিত্বকে প্রশ্নের মুখে ফেলে। সে কারণেই দ্রুত এই কঠোর পদক্ষেপ বলে মনে করা হচ্ছে। শনিবারের এই ঘটনার পর জেলার অন্যান্য প্রান্তে মোতায়েন থাকা জওয়ানদের সতর্ক করা হয়েছে। ভোটের আবহে কেন্দ্রীয় বাহিনীর এমন খামখেয়ালিপনা যে কোনওভাবেই বরদাস্ত করা হবে না, এই সাসপেনশনের মাধ্যমে কমিশন তা স্পষ্ট করে দিল।

এর আগেও বিএসএফ-এর কয়েকজন জওয়ানের বিরুদ্ধে অভিযোগ ওঠায় তাঁদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নিয়েছিল কমিশন। কিন্তু সেই ঘটনা থেকে যে কোনও শিক্ষাই নেওয়া হয়নি, বীরভূমের ঘটনা তারই প্রমাণ। ওয়াকিবহাল মহলের মতে, ভোটের মুখে কেন্দ্রীয় বাহিনীর ভাবমূর্তি যাতে কোনওভাবেই কালিমালিপ্ত না হয়, সে বিষয়ে বদ্ধপরিকর নির্বাচন কমিশন। সোজা কথায়, কোনও নির্দিষ্ট রাজনৈতিক দলের কার্যালয়ে জওয়ানদের এই ধরণের উপস্থিতি বাহিনীর পেশাদারিত্বকে প্রশ্নের মুখে ফেলে। সে কারণেই দ্রুত এই কঠোর পদক্ষেপ বলে মনে করা হচ্ছে। শনিবারের এই ঘটনার পর জেলার অন্যান্য প্রান্তে মোতায়েন থাকা জওয়ানদের সতর্ক করা হয়েছে। ভোটের আবহে কেন্দ্রীয় বাহিনীর এমন খামখেয়ালিপনা যে কোনওভাবেই বরদাস্ত করা হবে না, এই সাসপেনশনের মাধ্যমে কমিশন তা স্পষ্ট করে দিল।