ভারত-পাকিস্তান সীমান্তে নতুন করে উত্তেজনার পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে বিগত কয়েক সপ্তাহে। কোনও সংঘর্ষ না বাঁধলেও জঙ্গি গতিবিধি বেড়েছে নিয়ন্ত্রণরেখায়। তবে সেনা এবং বিএসএফের তৎপরতায় বড় ধরনের কোনও হামলা হয়নি। তবে পাকিস্তানকে হুঁশিয়ারি দিচ্ছে ভারতীয় সেনা। এরই মধ্যে পাকিস্তানের গোয়েন্দা সংস্থা আইএসআই (ইন্টার-সার্ভিসেস ইন্টেলিজেন্স) পঞ্জাবে একটি বড় ষড়যন্ত্র করছে। সাম্প্রতিক প্রতিবেদন অনুযায়ী, গত বছরের তুলনায় এ বছর পাকিস্তান থেকে অস্ত্র চোরাচালান পাঁচগুণ বেড়েছে। এই বছর এখনও পর্যন্ত, একে-৪৭ রাইফেল, গ্রেনেড এবং ইম্প্রোভাইজড এক্সপ্লোসিভ ডিভাইস (আইইডি) সহ ৩৬২টি অস্ত্র বাজেয়াপ্ত করা হয়েছে। ২০২৪ সালে এই সংখ্যাটা ছিল মাত্র ৮১।
নিরাপত্তা বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, ভারতের ‘অপারেশন সিঁদুর’-এর সাফল্যের ফলে পাকিস্তান নতুন উপায়ে ভারতে অশান্তি ছড়াতে চাইছে। বলা হচ্ছে, এই বছর উদ্ধার হওয়া মোট অস্ত্রের প্রায় এক-তৃতীয়াংশ অস্ত্র অপারেশন সিঁদুরের পর বাজেয়াপ্ত করা হয়েছে। পঞ্জাব পুলিশ এবং কেন্দ্রীয় সংস্থাগুলির নজরদারিতে বেশ কয়েকটি আইএসআই সমর্থিত চোরাচালান নেটওয়ার্কের পর্দাও ফাঁস করা হয়েছে। এরই মাঝে ড্রোনের মাধ্যমে অস্ত্র ও মাদক চোরাচালান বৃদ্ধি পেয়েছে। পঞ্জাবকে অস্থিতিশীল করার জন্য পাকিস্তান এই কাজ করছে বলে মনে হচ্ছে।
এখনও পর্যন্ত এই বছরে ৫০ জনেরও বেশি লোককে গ্রেফতার করা হয়েছে। তাদের মধ্যে কয়েকজন ড্রোন থেকে ফেলা অস্ত্র সংগ্রহ করতে গিয়ে ধরা পড়েছিল। অন্যরা সন্ত্রাসী হামলার ষড়যন্ত্রের সঙ্গে যুক্ত ছিল। তিন বছর পরে প্রথমবারের মতো তিনটি একে-৪৭ রাইফেল উদ্ধার হয়েছে এই বছরে। এর জেরে নিরাপত্তা সংস্থাগুলির উদ্বেগ বেড়ে গিয়েছে। এর আগে ২০২২ সালে ছয়টি একে-৪৭ রাইফেল উদ্ধার করা হয়েছিল। এছাড়াও এই বছরের বাজেয়াপ্ত হওয়া অস্ত্রগুলির মধ্যে একটি ৯ মিলিমিটার গ্লক, পিএক্স ৫ পিস্তল, .৩০ বোর, .৩২ বোর এবং .৩১৫ ক্যালিবার পিস্তল।
পঞ্জাবের ডিরেক্টর জেনারেল অফ পুলিশ (ডিজিপি) গৌরব যাদব দ্য ট্রিবিউনকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে বলেন, ‘সীমান্তের ওপার থেকে পাঠানো অত্যাধুনিক অস্ত্র চোরাচালান ব্যর্থ করেছি আমরা। সময়মতো অনেক সন্ত্রাসী ষড়যন্ত্রও ব্যর্থ করেছি।’ তিনি উল্লেখ করেন যে পাঞ্জাব পুলিশ, কাউন্টার ইন্টেলিজেন্স ইউনিট, স্পেশাল সার্ভিস অপারেশন সেল, বর্ডার সিকিউরিটি ফোর্স (বিএসএফ) এবং কেন্দ্রীয় সংস্থাগুলির সমন্বিত প্রচেষ্টায় এই সাফল্য সম্ভব হয়েছে। তদন্তে জানা গেছে যে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র, কানাডা এবং অন্যান্য দেশে সক্রিয় গ্যাংস্টার এবং সন্ত্রাসবাদী সংগঠনগুলি এই অস্ত্র পাচার করছে। তারা বব্বর খালসা ইন্টারন্যাশনালের মতো খলিস্তানি গোষ্ঠীর সদস্যদের অস্ত্র সরবরাহ করছে। এছাড়া দাগী সমাজবিরোধীদের হাতেও অস্ত্র পৌঁছে দেওয়ার চেষ্টায় আছে খলিস্তানি এবং পাকিস্তানি গোষ্ঠীগুলি।

পঞ্জাবের এক আধিকারিকের মতে, ‘গুন্ডা, মাদক চোরাকারবারি এবং সন্ত্রাসবাদীদের যোগসাজশ ব্যবহার করে পঞ্জাবে অরাজকতা ছড়াচ্ছে আইএসআই। উদ্ধার হওয়া অস্ত্রগুলি চাঁদাবাজি, টার্গেট কিলিং এবং সহিংস গ্যাং লড়াইয়ের সাথে যুক্ত বলে প্রমাণিত হয়েছে। এটি আইএসআইয়ের বৃহত্তর ষড়যন্ত্রের অংশ। তাদের লক্ষ্য পঞ্জাবের আইনশৃঙ্খলার অবনতি ঘটানো এবং পঞ্জাবকে অস্থিতিশীল করে তোলা। এরই সঙ্গে খালিস্তানের মতো বিচ্ছিন্নতাবাদী মতাদর্শকে ইন্ধন জোগাচ্ছে আইএসএ। সশস্ত্র দলগুলো ভবিষ্যতে সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডের ‘পদাতিক সৈনিক’ হয়ে উঠতে পারে।