সোমবার (১৭ আগস্ট) ফক্স নিউজকে দেয়া এক সাক্ষাৎকারে গাজা প্রসঙ্গে ট্রাম্প বলেন, ‘ইসরাইলিদের গাজায় হামলা চালানো উচিত নয়। হামাস তাদের অস্ত্র সমর্পণে সম্মত হয়েছে।’ এ সময় হামাসের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের কর্মকর্তাদের যোগাযোগ রয়েছে বলেও জানান মার্কিন প্রেসিডেন্ট।
পরে এক বিবৃতিতে হামাসের মুখপাত্র হাজেম কাসেম বলেন, ট্রাম্পের বক্তব্য যুদ্ধবিরতির পথে তার অঙ্গীকারের বিষয়টি নিশ্চিত করে।
গাজা পরিকল্পনার দ্বিতীয় ধাপ বাস্তবায়নে ইসরাইলকে চাপ দেয়ার আহ্বান জানিয়ে বিবৃতিতে তিনি আরও বলেন,‘গাজা শান্তি পরিকল্পনার দ্বিতীয় ধাপ শুরু করতে যে সমঝোতা হয়েছে, তা মেনে চলতে ইসরাইলি দখলদারদের ওপর চাপ দিন।’
এদিকে গাজা পরিকল্পনা বাস্তবায়নে সোমবার ট্রাম্পের উপদেষ্টা ও জামাতা জ্যারেড কুশনার সোমবার ইসরাইলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর সঙ্গে বৈঠক করেছেন।
বৈঠকে কুশনারের সঙ্গে ছিলেন গাজার জন্য ‘বোর্ড অব পিস’-এর প্রধান দূত নিকোলাই ম্লাদেনভ এবং বোর্ডের সদস্য ও সাবেক ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী টনি ব্লেয়ার।
সূত্রের বরাত দিয়ে ইসরাইলি সংবাদমাধ্যম জানিয়েছে, বৈঠকে বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু গাজায় লক্ষ্যভিত্তিক হত্যাকাণ্ড চালিয়ে যাওয়ার কথা জানিয়েছেন। তবে এ ধরনের হত্যাকাণ্ডের বিরোধিতা করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্পের দূত ও জামাতা জ্যারেড কুশনার।
সোমবার চ্যানেল ১৫ সূত্রের বরাতে জানায়, গাজায় হত্যাকাণ্ড অব্যাহত রাখা নিয়ে নেতানিয়াহু ও কুশনারের মধ্যে কোনো সমঝোতা হয়নি। সূত্রটি জানায়, ‘নেতানিয়াহু স্পষ্ট করেছেন যে তিনি হত্যাকাণ্ড চালিয়ে যাবেন। অন্যদিকে কুশনার এর বিরোধিতা করেছেন।’

এর আগে রোববার সন্ধ্যায় মিশর থেকে ইসরাইলে পৌঁছান কুশনার। মিশরে তিনি প্রেসিডেন্ট আবদেল ফাত্তাহ আল-সিসি এবং হামাসের রাজনৈতিক ব্যুরোর প্রধান খলিল আল-হাইয়ার নেতৃত্বাধীন প্রতিনিধিদের সঙ্গে বৈঠক করেন তিনি।
২০২৩ সালের অক্টোবরে গাজায় ইসরাইলের অভিযান শুরুর পর থেকে ৭৩ হাজারের বেশি ফিলিস্তিনি নিহত এবং ১ লাখ ৭৪ হাজারের বেশি আহত হয়েছেন।
ট্রাম্পের গাজা পরিকল্পনার প্রথম ধাপের অংশ হিসেবে ২০২৫ সালের অক্টোবর থেকে যুদ্ধবিরতি কার্যকর থাকলেও গাজায় ইসরাইলি হামলা অব্যাহত রয়েছে। গাজার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের হিসাবে, যুদ্ধবিরতির পরও ইসরাইলি হামলায় অন্তত ১ হাজার ২৬০ জন নিহত এবং ৪ হাজার ১০০ জনের বেশি আহত হয়েছেন।
পরিকল্পনার দ্বিতীয় ধাপে গাজার প্রশাসনের দায়িত্ব একটি ফিলিস্তিনি টেকনোক্র্যাট কমিটির কাছে হস্তান্তর, আন্তর্জাতিক স্থিতিশীলতা বাহিনী মোতায়েন, হামাসের অস্ত্র আন্তর্জাতিক তত্ত্বাবধানে রাখার ব্যবস্থা, ধাপে ধাপে ইসরাইলি সেনা প্রত্যাহার এবং গাজা পুনর্গঠনের কথা রয়েছে।