তিস্তা প্রকল্প নিয়ে ইউনুস আমলেই তৎপর হয়েছিল বাংলাদেশ। শেখ হাসিনা সরকারের পতনের পর থেকে তিস্তা প্রকল্প নিয়ে বেজিংর দ্বারস্থ হয় ঢাকা। এবার তারেক আমলে ফের একবার উঠল এই তিস্তা প্রকল্পের প্রসঙ্গ।
বাংলাদেশের ঢাকায় এদিন স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ বীর বিক্রমের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেছেন ঢাকায় নিযুক্ত চিনের রাষ্ট্রদূত ইয়াও ওয়েন। সেখানেই ওঠে তিস্তা প্রকল্পের কথা। বাংলাদেশের ঢাকার সংসদ ভবনে স্পিকারের কার্যালয়ে এই মিটিং আয়োজিত হয়। জানা যাচ্ছে, এই মিটিং-এ দুই দেশের দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক, সংসদীয় মৈত্রী গ্রুপ গঠন, তিস্তা প্রকল্প এবং রোহিঙ্গা সংকট নিরসন সমেত পারস্পরিক স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিভিন্ন বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনা করেন। বৈঠক ঘিরে বাংলাদেশের স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদের বক্তব্য, বাংলাদেশের সবচেয়ে পুরনো ও বিশ্বস্ত বন্ধু। তাঁর মতে, দুই দেশের সুসম্পর্ক এগিয়ে নিতে সংসদ সদস্যদের সফর বিনিময় অত্যন্ত জরুরি। তিনি গণতান্ত্রিক ব্যবস্থায় বাংলাদেশ-চিন সংসদীয় মৈত্রী গ্রুপ দ্রুত বাস্তবায়নের তাগিদ দেন। এই সাক্ষাতের সময় বাংলাদেশের স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ বাংলাদেশের জন্য গুরুত্বপূর্ণ তিস্তা প্রকল্প বাস্তবায়ন এবং বাংলাদেশের বুকে দীর্ঘদিনের রোহিঙ্গা সংকট নিরসনে চিনের কার্যকর ও শক্তিশালী ভূমিকা রাখার প্রস্তাব করেন। কার্যত তিস্তা প্রকল্প নিয়ে বাংলাদেশের তারেক আমলও নিজের অবস্থান জানান দিয়ে দিয়েছে। অন্যদিকে, বাংলাদেশে অবস্থিত চিনের রাষ্ট্রদূত ইয়াও ওয়েন, চিনের বেল্ট অ্যান্ড রোড ইনিশিয়েটিভে বাংলাদেশের অংশগ্রহণ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ, বলে উল্লেখ করেন।
উল্লেখ্য, বাংলাদেশের বুকে চিনের এই তিস্তা প্রকল্পে অংশগ্রহণ ভারতের জন্য নিরাপত্তার দিক থেকে বেশ উদ্বেগের। উল্লেখ্য, এই তিস্তার কাছেই রয়েছে চিকেনস নেক। যা দেশের বাকি অংশের সঙ্গে উত্তর পূর্বের রাজ্যগুলিকে জুড়ে দেয়। আর অরুণাচল নিয়ে বহুদিন ধরেই বেজিং নিজের মতো করে দাবি দাওয়া পেশ করে চলেছে। যে সমস্ত দাবি দাওয়া ভারত খুব একটা ভালোভাবে নেয়নি। বিশেষত লাদাখে ২০২০ সালে গালওয়ান সংঘর্ষের পর থেকে ভারত-চিন সম্পর্কের মাঝে প্রতিরক্ষা একটি বড় ইস্যু হয়ে গিয়েছে। সেই জায়গা থেকে তারেক আমলে তিস্তা নিয়ে ঢাকার এই বার্তা বেশ তাৎপর্যপূর্ণ।
