সিএনএনের সাংবাদিককে ট্রাম্পের ধমক

Spread the love

দক্ষিণ কোরিয়ার সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক মহড়া কমানোর সিদ্ধান্ত নিয়ে প্রশ্ন করায় সিএনএনের সাংবাদিক ক্রিস্টেন হোমসকে ধমক দিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তাকে ‘ফেক রিপোর্টার’ বলার পাশাপাশি বারবার চুপ থাকতে বলেন তিনি।

প্রতিবেদন মতে, সোমবার (১৭ আগস্ট) ওভাল অফিসে এক সংবাদ সম্মেলনে অংশ নেন ট্রাম্প। সেখানে তাকে প্রশ্ন করেন হোমস। তিনি জানতে চান, উত্তর কোরিয়ার নেতা কিম জং উন কি যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্টকে দক্ষিণ কোরিয়ার সঙ্গে সামরিক মহড়া কমানোর অনুরোধ করেছিলেন?

জবাব দেওয়ার বদলে ট্রাম্প হোমসকে বলেন, ‘চুপ করুন। আপনি খুবই অপমানজনক।’ পরে তাকে ‘লাউড’ ও ‘বোজিস্টারাস’ ব্যক্তি এবং ‘ফেক নিউজ’ বলে আখ্যা দেন। একপর্যায়ে বলেন, ‘আপনি একজন ভুয়া সাংবাদিক (ফেক রিপোর্টার)।’
 
হোমসের প্রশ্নের বিষয় ছিল ট্রাম্পের সাম্প্রতিক সামরিক সিদ্ধান্ত। ট্রাম্প পেন্টাগনকে দক্ষিণ কোরিয়ার সঙ্গে যৌথ সামরিক মহড়া ‘উল্লেখযোগ্যভাবে কমানোর’ নির্দেশ দিয়েছেন।
 
বার্ষিক ‘উলচি ফ্রিডম শিল্ড’ মহড়া নামে নিয়মিত সামরিক মহড়াটি গত সোমবার (১৭ আগস্ট) শুরু হয়েছে যা আগামী ২৭ আগস্ট পর্যন্ত চলবে। এতে প্রায় ১৮ হাজার দক্ষিণ কোরীয় সেনা অংশ নিচ্ছেন।
 
ট্রাম্প এই সিদ্ধান্তের পক্ষে খরচের বিষয়টি তুলে ধরেন। পাশাপাশি দক্ষিণ কোরিয়ার ইরানের বিরুদ্ধে মার্কিন কর্মকাণ্ডে সহায়তা না করার বিষয়েও অসন্তোষ প্রকাশ করেছেন। দক্ষিণ কোরিয়ার প্রেসিডেন্ট লি জে মিয়ং অবশ্য যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সামরিক জোটের গুরুত্ব পুনর্ব্যক্ত করেছেন।
 
একই সময়ে উত্তর কোরিয়ার নেতা কিম জং উনের সঙ্গে সম্পর্ক উন্নয়নের ইঙ্গিত দিয়েছেন ট্রাম্প। তিনি বলেছেন, কিম তার সাম্প্রতিক উদ্যোগে ইতিবাচক সাড়া দিয়েছেন। তবে এ বিষয়ে বিস্তারিত কিছু জানাননি তিনি।
ট্রাম্পের সিদ্ধান্তকে কিমকে কাছে টানার একটি প্রচেষ্টা হিসেবে দেখা হচ্ছে। এর আগে ২০১৮ সালে কিমের সঙ্গে বৈঠকের পরও ট্রাম্প যুক্তরাষ্ট্র-দক্ষিণ কোরিয়ার যৌথ সামরিক মহড়া স্থগিত করেছিলেন। উত্তর কোরিয়া বরাবরই এসব মহড়াকে নিজেদের বিরুদ্ধে আক্রমণের প্রস্তুতি হিসেবে দেখে আসছে।
 
এদিকে হোমসকে ট্রাম্পের প্রকাশ্যে অপমানের ঘটনা নতুন করে মার্কিন প্রেসিডেন্টের সঙ্গে গণমাধ্যমের সংঘাতের বিষয়টি সামনে এনেছে। এর আগেও কঠিন প্রশ্ন করা সাংবাদিকদের সঙ্গে তীব্র বাকবিতণ্ডায় জড়িয়েছেন ট্রাম্প। সোমবারের ঘটনাটিও সেই ধারাবাহিকতার অংশ হিসেবে দেখা হচ্ছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *