গাজা যুদ্ধবিরতি চুক্তি বাস্তবায়নে বাধা দিচ্ছে ইসরাইল! অভিযোগ হামাস ও ফিলিস্তিনি গোষ্ঠীগুলোর

Spread the love

গাজায় যুদ্ধবিরতি চুক্তির পূর্ণ বাস্তবায়নে ইসরাইলই বাধা দিচ্ছে বলে অভিযোগ করেছে হামাস ও অন্যান্য ফিলিস্তিনি গোষ্ঠী। চুক্তির প্রথম ধাপে সম্মত হওয়া বিভিন্ন প্রতিশ্রুতি থেকে ইসরাইল সরে গেছে এবং এখনো চুক্তি লঙ্ঘন করে যাচ্ছে বলেও অভিযোগ করেছে তারা। খবর আনাদোলু এজেন্সি ও রয়টার্সের।

গত সোমবার (১৭ আগস্ট) মিশরের রাজধানী কায়রোতে হামাসের রাজনৈতিক ব্যুরোর প্রধান খলিল আল-হাইয়া ও ফাতাহর ডেমোক্রেটিক ন্যাশনাল কারেন্টের নেতা মোহাম্মদ দাহলানের নেতৃত্বাধীন একটি প্রতিনিধিদলের মধ্যে বৈঠক হয়। বৈঠকে গাজার যুদ্ধবিরতি, চুক্তির পরবর্তী ধাপ বাস্তবায়ন, মানবিক সহায়তা এবং অঞ্চলটির রাজনৈতিক ও মাঠপর্যায়ের পরিস্থিতি নিয়ে আলোচনা হয়।

 

বৈঠকের পর আল-হাইয়া ফিলিস্তিনি বিভিন্ন গোষ্ঠীর নেতাদের সঙ্গে আলাদাভাবে আলোচনা করেন। এ সময় তিনি যুদ্ধবিরতির মধ্যস্থতাকারী ও মিসরের কর্মকর্তাদের সঙ্গে তার সাম্প্রতিক বৈঠকের বিষয়ে তাদের অবহিত করেন।
 
এরপর ফিলিস্তিনি গোষ্ঠীগুলোর নেতারা ইসরাইলের বিরুদ্ধে যুদ্ধবিরতি চুক্তি বাস্তবায়নে গড়িমসি করার অভিযোগ তোলেন। তাদের দাবি, চুক্তির প্রথম ধাপে যেসব বিষয়ে ইসরাইল সম্মত হয়েছিল, সেগুলোর কয়েকটি বাস্তবায়ন না করে বরং নতুন করে শর্ত আরোপ করছে তেল আবিব।
 
এদিকে গাজা যুদ্ধবিরতির দ্বিতীয় ধাপ বাস্তবায়ন নিয়ে কায়রোতে কূটনৈতিক তৎপরতা জোরদার হয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের বিশেষ দূত জ্যারেড কুশনারও সম্প্রতি আল-হাইয়ার সঙ্গে বৈঠক করেছেন।
 
মার্কিন প্রস্তাবিত পরিকল্পনায় হামাসের নিরস্ত্রীকরণ, ইসরাইলি সেনা প্রত্যাহার এবং গাজার পুনর্গঠনের বিষয় রয়েছে। তবে ইসরাইলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু হামাস পুরোপুরি নিরস্ত্র না হওয়া পর্যন্ত সেনা প্রত্যাহার ও গাজার পুনর্গঠনে সম্মতি দিতে অস্বীকৃতি জানিয়েছেন।
 
হামাসের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, তারা পরিকল্পনাটি নিয়ে আলোচনায় প্রস্তুত। তবে ইসরাইলকে আগে হামলা বন্ধ এবং গাজার নির্দিষ্ট এলাকা থেকে সেনা প্রত্যাহার করতে হবে। ফলে যুদ্ধবিরতি চুক্তির পরবর্তী ধাপের বাস্তবায়ন নিয়ে দুই পক্ষের মধ্যে অচলাবস্থা অব্যাহত রয়েছে।
 
মোহাম্মদ দাহলানের নেতৃত্বাধীন ডেমোক্রেটিক ন্যাশনাল কারেন্ট ফাতাহর একটি প্রভাবশালী সংস্কারপন্থী গোষ্ঠী। সংগঠনটি ফিলিস্তিনি প্রেসিডেন্ট মাহমুদ আব্বাসের নেতৃত্বাধীন কেন্দ্রীয় ফাতাহ নেতৃত্বের বাইরে স্বাধীনভাবে কার্যক্রম পরিচালনা করে। গাজার ভবিষ্যৎ প্রশাসন ও পুনর্গঠন নিয়ে সাম্প্রতিক আলোচনায় দাহলানের সম্ভাব্য ভূমিকা নিয়েও আলোচনা চলছে। 

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *